মহা নায়ক

 





|| মহানায়ক  (অ) সম্মান ||

মহানায়কের মৃত্যু দিনে তাঁকে শ্রদ্ধা (!!??) জানাতে শাসক দলের এবং শাসকের প্রচারে সদা সর্বদা ব্যস্ত থাকা একটি দৈনিক সংবাদপত্র বিগত শাসক এবং শাসক দলের মহানায়কের মৃত্যু দিনের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরাট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে প্রমোদ দাশগুপ্ত থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য হয়ে জ্যোতি বসু র অনেক নিন্দা সমালোচনা করা হয়েছে। ১৯৮০ তে আমি খুবই ছোট, উত্তম কুমার কে জানার বয়স তখনও হয়নি! কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষিপ্তভাবে এমন অনেক কথা আমিও শুনেছি। আমাদের বাড়িতে যেহেতু অনেক ম্যাগাজিন রাখা হতো তাই সেইসব ম্যাগাজিনে মহানায়কের জন্ম এবং মৃত্যু মাসে তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে তৈরি বিশেষ সংখ্যাগুলি পড়ার সুযোগ হতো আর সেখান থেকেই অনেক তথ্য পেতাম।‌ 




এমনি কোন একটা পত্রিকায় পড়েছিলাম শুধু প্রমোদ দাশগুপ্ত নন নিরাপত্তার কথা ভেবে উত্তমবাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে তরুণকুমারও নাকি চাননি মহানায়কের দেহ রবীন্দ্রসদনে রাখা হোক। বড় হয়ে বেনু আন্টির (সুপ্রিয়া দেবী) সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে উত্তমবাবুর সম্পর্কে অনেক কথা জানার সুযোগ হয়েছিল। ‌যদিও উত্তমবাবুর মৃত্যু দিনে সুপ্রিয়া দেবী নিজেই ব্রাত্য ছিলেন, তবুও ওনাকে আক্ষেপ করে বলতে শুনেছি মহানায়কের মৃত্যুর পরে সরকারের পক্ষ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উত্তমবাবু বেঁচে থাকতেও তাকে যথাযোগ্য সম্মান কখনো বাম সরকার দেয়নি। কারণ ইন্ডাস্ট্রি এবং কাছের মানুষেরা সকলেই জানতেন মহানায়ক ডানপন্থী মানুষ আর তাই তার প্রতি সরকারের এত অবহেলা! আমি দেবী জ্যেঠুর (দেবী হালদার) কাছেও এমনটাই শুনেছি। সত্যি মিথ্যা বিচার করার আমি কেউ নই। মহানায়কের অন্ধভক্ত হিসেবে তাঁর জীবনের নানান ঘটনা শুনতে ভালো লাগতো তাই যখনই ওনার কোন সহশিল্পী কিংবা ওনার সঙ্গে কাজ করেছেন সে সময়ের কোনো টেকনিশিয়ান এর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেলেই তাদের কাছে মহানায়কের গল্প শুনতে চাইতাম! সেভাবেই এই তথ্যগুলো জানা। আজ কেউ কেউ এই ঘটনাগুলো স্বীকার করেন কেউ কেউ অস্বীকার করেন আবার কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই ঘটনাগুলোকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেন। সবটাই চোখের সামনে দেখি। যেমন মহানায়কের নামাঙ্কিত পুরস্কার নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে সরকারি সার্কাস দেখছি! গত বছর এ প্রসঙ্গে আমার অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়া অভিনেত্রী মানসী সিনহা কে প্রতিবাদ করতে দেখেছি।



 ''দাদাসাহেব ফালকে"র মত শিল্পীর সারা জীবনের কাজের জন্য যদি তাকে "মহানায়ক" সম্মান দেওয়া হতো তাহলে বোধ হয় মহানায়ক এবং মহানায়ক সম্মান প্রাপক সেই শিল্পীকে যথাযোগ্য সম্মান জানানো হতো, এমনটা আমার বারবার মনে হয়েছে! "মহানায়ক" সম্মানটা আমাদের বাংলার "দাদাসাহেব ফালকে" সম্মানের মত হলে "সম্মান"টার যথাযথ মর্যাদা থাকতো! এখন তো আমরা কেউই বুঝতে পারি না "মহানায়ক" সম্মানটা ঠিক কি কারণে দেওয়া হয়!! সারা জীবনের কাজের জন্য? মানে সারা জীবন ধরে সিনেমা শিল্পে অভিনয় শিল্পীদের অবদানের জন্য? যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে তো অসংখ্য যোগ্য এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় অভিনেতা-অভিনেত্রী আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে আছেন যারা এই সম্মানের যোগ্য দাবীদার! তারা সকলে হয়তো তথাকথিত নায়ক নায়িকা নন, কিন্তু যেসব তথাকথিত নায়ক নায়িকাদের এই পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে তাদের অনেকের থেকে অনেক বেশি যোগ্য ওনারা এ কথা শুধু আমি নই সিনেমা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এবং যুক্ত নন সমস্ত সিনেমা প্রেমী বাঙালিও বোঝেন!! তবে কেন? বিচারের মাপকাঠিটা ঠিক কি!! বিগত বছরগুলোর কথা বাদই দিলাম এবছর যারা পেলেন এই সম্মান তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন অবশ্যই ভালো অভিনয়শিল্পী কিন্তু সিনেমা শিল্পে তাদের অবদানের জন্য এই সম্মান যদি তারা কমপক্ষে আরো ১৫/২০ বছর পরে পেতেন তাহলে সেটা আরো অনেক বেশি সম্মানজনক হতো! সেই সঙ্গে তো এমন কয়েকজনকে পুরস্কৃত করা হলো যাদের নিয়ে সমাজমাধ্যমে হাসির ফোয়ারা উঠেছে! আমি জানিনা শাসক কেন নিজেকে এভাবে হাস্যকর করে তুলছেন..... সেটার কৈফিয়ৎ চাওয়ার বোধহয় আমি কেউ নই!! কিন্তু মহানায়কের একজন অন্ধ ভক্ত হিসেবে আমার বারবারই মনে হয় এভাবে মহানায়কের নামাঙ্কিত সম্মান মুড়ি-মিছরির এক দরে বিলিয়ে দিয়ে প্রতিবছর মহানায়ককে অসম্মানই করা হচ্ছে!! 



Comments